"The Emissaries"
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
In the name of Allah, the Most Gracious, the Most Merciful
পর পর পাঠানো বাতাসের শপথ যা উপকার সাধন করে,
অতঃপর তা প্রচন্ড ঝড়ের বেগে বইতে থাকে,
শপথ সেই বায়ুর যা (মেঘমালাকে) ছড়িয়ে দেয় দূর দূরান্তে,
আর বিচ্ছিন্নকারী বাতাসের শপথ যা (মেঘমালাকে) বিচ্ছিন্ন করে,
অতঃপর (মানুষের অন্তরে) পৌঁছে দেয় (আল্লাহর) স্মরণ,
(বিশ্বাসী লোকদেরকে) ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য আর (কাফিরদেরকে) সতর্ক করার জন্য।
তোমাদেরকে যার ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।
যখন নক্ষত্ররাজির আলো বিলুপ্ত হবে,
যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
যখন পবর্তমালা ধুনিত হবে।
যখন (হাশরের মাঠে) রসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় এসে পড়বে।
(এ সব বিষয়) কোন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে?
চূড়ান্ত ফয়সালার দিনের জন্য।
সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিনটি কী তা তোমাকে কিসে জানাবে?
সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
আমি কি আগেকার লোকেদেরকে ধ্বংস করে দেইনি?
অতঃপর পরবর্তী লোকেদেরকেও আমি তাদের অনুগামী করব।
অপরাধীদের প্রতি আমি এরকমই করে থাকি।
সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
আমি কি নগণ্য পানি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিনি?
অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সুসংরক্ষিত স্থানে।
একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত,
অতঃপর আমি তাকে গঠন করেছি সুসামঞ্জস্যপূর্ণরূপে, আমি কতই না উত্তম ক্ষমতার অধিকারী!
সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
আমি কি পৃথিবীকে (সব কিছুকে টেনে গুটিয়ে) ধারণকারীরূপে সৃষ্টি করিনি?
জীবিত ও মৃতদেরকে (ভাল আর মন্দকে নেককার আর পাপাচারীকে)।
আর আমি তাতে স্থাপন করেছি অনড় সুউচ্চ পবর্তমালা আর তোমাদেরকে পান করিয়েছি সুমিষ্ট সুপেয় পানি।
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
(তাদেরকে বলা হবে) ‘চলো তার দিকে তোমরা যাকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করতে।
‘চলো সেই (ধোঁয়ার) ছায়ার দিকে যার আছে তিনটি শাখা (অর্থাৎ ডানে, বামে, উপরে সব দিক থেকেই ঘিরে ধরবে),
যা শীতল নয়, আর তা লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে বাঁচাতেও পারবে না।
সে আগুন প্রাসাদের ন্যায় (বিশাল) স্ফুলিঙ্গ উৎক্ষেপ করবে,
যেন হলুদ রঙ্গের উটের সারি,
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
এদিন এমন যে, কেউ কথা বলতে পারবে না,
তাদেরকে কোন ওজর পেশ করারও সুযোগ দেয়া হবে না।
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
এটা চূড়ান্ত ফয়সালার দিন, আমি একত্রিত করেছি তোমাদেরকে আর আগের লোকেদেরকে।
এক্ষণে তোমাদের কাছে যদি কোন কৌশল থাকে তাহলে তা আমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ কর।
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে,
আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল- যেটি তাদের মন চাইবে।
(তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা তৃপ্তির সঙ্গে খাও আর পান কর, তোমরা যে ‘আমাল করেছিলে তার পুরস্কারস্বরূপ।
সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
(ওহে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা!) তোমরা অল্প কিছুকাল খেয়ে নাও আর ভোগ করে নাও, তোমরা তো অপরাধী।
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
তাদেরকে যখন বলা হয় (আল্লাহর সম্মুখে) নত হও, (তাঁর আদেশসমূহ পালনের মাধ্যমে) তখন তারা নত হয় না।
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
তাহলে কুরআনের পর (তার চেয়ে উত্তম) আর কোন্ কিতাব আছে যার উপর তারা ঈমান আনবে?