"The Reality"
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
In the name of Allah, the Most Gracious, the Most Merciful
নিশ্চিত সংঘটিতব্য বিষয়,
কী সেই নিশ্চিত সংঘটিতব্য বিষয়?
আর তুমি কি জান কী সেই নিশ্চিত সংঘটিতব্য বিষয়?
‘আদ ও সামূদ জাতি সেই আকস্মিকভাবে সংঘটিতব্য মহাবিপদকে মিথ্যে বলেছিল।
অতঃপর সামূদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দিয়ে।
আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া দিয়ে।
যা তাদের উপর প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত আট দিন বিরামহীনভাবে, তুমি দেখতে তারা পড়ে আছে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত, যেন তারা পুরাতন শুকনো খেজুর গাছের কান্ড।
তুমি তাদের কাউকে রক্ষা পেয়ে বেঁচে থাকতে দেখছ কি?
ফেরাউন আর তার পূর্ববর্তীরা আর উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা গুরুতর পাপে লিপ্ত ছিল।
তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল, তখন তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন- অত্যন্ত কঠিন পাকড়াও।
(নূহের বানের) পানি যখন কূল ছাপিয়ে সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করালাম।
যেন এ ঘটনাটিকে আমি তোমাদের জন্য শিক্ষাপ্রদ-স্মারক করে রাখি আর সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করে।
অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।
পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।
সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য (মহা) ঘটনা।
আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।
ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের ‘আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।
সেদিন তোমাদেরকে (বিচারের জন্য) হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।
তখন যাকে তার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘এই যে আমার ‘আমালানামা পড়ে দেখ,
আমি জানতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’
অতঃপর সে আনন্দময় জীবন যাপন করবে,
উচ্চতম মর্যাদার জান্নাতে,
তার ফলসমূহ (ঝুলে থাকবে) নীচে-নাগালের মধ্যে।
(তাদেরকে বলা হবে) পরিপূর্ণ তৃপ্তির সঙ্গে খাও এবং পান কর বিগত দিনে তোমরা যা (নেক ‘আমাল) করেছিলে তার প্রতিদান স্বরূপ।
কিন্তু যার ‘আমালনামা বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘হায়! আমাকে যদি আমার ‘আমালনামা না দেয়া হত,
আর আমার হিসাব কী তা যদি আমি না-ই জানতাম,
‘হায়! (দুনিয়ার) মৃত্যুই যদি আমার শেষ (অবস্থা) হত!
আমার ধন-সম্পদ আমার কোন কাজে আসল না,
আমার (সব) ক্ষমতা আধিপত্য নিঃশেষ হয়ে গেছে,
(তখন নির্দেশ আসবে) ধর ওকে, ওর গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাও,
তারপর ছুড়ে ফেল ওকে জাহান্নামে,
তারপর ওকে শিকল দিয়ে বাঁধ- সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে,
সে মহান আল্লাহর উপর ঈমান আনেনি,
আর না সে মিসকীনকে খাবার খাওয়াতে উৎসাহ দিত,
কাজেই আজ এখানে তার কোন বন্ধু নেই,
ক্ষত হতে পড়া পুঁজ ছাড়া কোন খাদ্য নেই,
যা অপরাধীরা ছাড়া অন্য কেউ খায় না।
আমি কসম করছি সে সব জিনিসের যা তোমরা দেখতে পাও,
আর (সে সব জিনিসেরও) যা তোমরা দেখতে পাও না
যে, অবশ্যই এ কুরআন এক মহা সম্মানিত রসূল [জিবরীল (আঃ)]-এর (বহন করে আনা) বাণী।
তা কোন কবির কথা নয়, (কবির কথা তো) তোমরা বিশ্বাস করো না,
এটা কোন গণকের কথাও নয়, (গণকের কথায় তো) তোমরা নসীহত লাভ করো না।
এটা বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ,
নবী যদি কোন কথা নিজে রচনা করে আমার নামে চালিয়ে দিত,
আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে তাকে পাকড়াও করতাম,
তারপর অবশ্যই কেটে দিতাম তার হৃৎপিন্ডের শিরা,
অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, (আমার গোস্বা থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য) বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
মুত্তাক্বীদের জন্য এ কুরআন অবশ্যই এক উপদেশ,
আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কতক লোক (কুরআনকে) অস্বীকার করবে।
আর এ কুরআন কাফিরদের জন্য অবশ্যই দুঃখ ও হতাশার কারণ হবে (যখন কুরআনে বর্ণিত শাস্তি তাদেরকে ঘিরে ধরবে)।
এটা একেবারে নিশ্চিত সত্য।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা কর।